1. nongartv@gmail.com : Nongartv :
  2. suhagranalive@gmail.com : Suhag Rana : Suhag Rana
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

এসআই আকবরের বাবা ছিলেন ধর্ষক, খেটেছেন জেল!

ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেটের সময় বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২০

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে তার জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। আকবর আর তার পরিবারের ব্যাপারে মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, চাকরিতে যোগদানের পর এখন অঢেল সম্পদের মালিক আকবর। তার পরিবার নিয়েও আছে নানা বিতর্ক। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ মানতে নারাজ আকবরের স্বজনরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জের বগাইড় গ্রামে বরখাস্ত হওয়া এসআই আকবর হোসেনের একটি আলিশান বাড়ি রয়েছে। পুলিশে যোগদানের পরই যেন আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যান তিনি। অল্প দিনেই নিজ গ্রামে গড়ে তোলেন প্রচুর সম্পদ-সম্পত্তি।

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় আকবরের সংশ্লিষ্টতার খবর এরই মধ্যে ছড়িয়েছে তার এলাকায়। এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। স্থানীয়রা জানান, আকবরের পুরো পরিবার এলাকায় বিতর্কিত। তার বাবা ধর্ষণ মামলার আসামি ছিলেন। কারাগারেও ছিলেন একমাস।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবক বলেন, আকবরের বাবা স্কুলশিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতায় থাকাকালীন তিনি এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। পরে ওই ঘটনা নিয়ে মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় তাকে সাজাও দেওয়া হয়েছিল।

একজন আইনের সেবক হয়ে আকবরের এমন কাণ্ডে হতবাক স্থানীয় আওয়ামী লীগ। বিষয়টি দুঃখজনক বলছেন নেতারা। সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আমরা আশুগঞ্জবাসী লজ্জিত। এটি একটি ন্যাক্কারজনক এবং দুঃখজনক ঘটনা। এ ধরনের ঘটনা যেন পুনরায় না ঘটে তাই সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে, আকবরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিশ্বাস করছে না তার পরিবার। তাদেরও দাবি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। আকবরের ভাই বলেন, আমার ভাই এ ধরনের কাজ কখনও করতে পারেন না। আমি চাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। আমরা নিউজের মাধ্যমে এ ঘটনা জানতে পেরেছি। কিন্তু কোনো সত্যতা পাইনি। আমার ভাই আসলে কিছুই বলেননি যে, আমি এটা করেছি, ওটা করিনি। এভাবে আমরা আসলে কিছুই জানতে পারিনি।

প্রসঙ্গত, গত রোববার সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রায়হান উদ্দিন মারা যান। তিনি সিলেট নগরের আখালিয়া নেহারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান।

বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিনের মতো গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রায়হান আহমদ নিজ কর্মস্থল নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেটের ডা. গোলাম কিবরিয়া ও ডা. শান্তা রানীর চেম্বারে যান। পরদিন রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর ৪টা ৩৩ মিনিটে ০১৭৮৩৫৬১১১১ মোবাইল নম্বর থেকে রায়হানের মা সালমা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল দিলে সেটি রিসিভ করেন রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহ। এ সময় রায়হান আর্তনাদ করে বলেন, তিনি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আছেন। তাকে বাঁচাতে দ্রুত টাকা নিয়ে বন্দর ফাঁড়িতে যেতে বলেন রায়হান। এ কথা শুনে রায়হানের চাচা ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে রায়হান কোথায় জানতে চাইলে দায়িত্বরত একজন পুলিশ সদস্য বলেন, সে ঘুমিয়ে গেছে। আর যে পুলিশ সদস্য রায়হানকে ধরে নিয়ে এসেছেন তিনিও চলে গেছেন। এ সময় হাবিবুল্লাহকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফাঁড়িতে আসার কথা বলেন ওই পুলিশ সদস্য। পুলিশের কথামতো হাবিুল্লাহ আবারও সকাল পৌনে ১০টার দিকে ফাঁড়িতে গেলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য জানান, রায়হান অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর রায়হানের চাচা ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে জরুরি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, রায়হানকে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে তিনি মারা যান। হাবিবুল্লাহ পরিবারের অন্য সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনকে খবর দিলে তারা গিয়ে ওসমানীর মর্গে রায়হানের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ দেখতে পান।

এজাহারে মামলার বাদী উল্লেখ করেন, আমার স্বামীকে কে বা কারা বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে পুলিশি হেফাজতে রেখে হাত-পায়ে আঘাত করে এবং হাতের নখ উপড়ে ফেলে। পুলিশ ফাঁড়িতে রাতভর নির্যাতনের ফলে আমার স্বামী মৃত্যুবরণ করেন।

এদিকে নিহত রায়হানের লাশ ফের কবর থেকে তুলে ময়না তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রিট। এর আগে এ ঘটনায় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। সাময়িক বরখাস্ত চার পুলিশ সদস্য হলেন- বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাস। আর প্রত্যাহার তিন পুলিশ সদস্য হলেন- এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© 2020 Nongartv.com . Design & Development by PAPRHI
Theme Customization By Freelancer Zone
shares